আঙ্কেল, এ শরবতে বিষ নাহি আছে

রাত পোয়ালেই পুরুষ'রা সিঁদুর খেলুন।
টক্সিক lead tetroxide এ নিজের বৌ, অন্যের বৌ এর কেশ-ত্বক বিলা না করে নিজের ভুঁড়ি, সিক্স প্যাক, ঊর্ধ্বাঙ্গ, নিম্নাঙ্গ সবেতে লেপন করুন। মেয়েদের খোলা-পিঠের সিঁদুর মাখা ছবি তুলতে হুমদো-পানা লেন্স বাগানো এই ডিজিটাল-কালে সাড়ে-কয়েকশো গুণ বেড়েছে। তাই ছেলেদের ও খেলা জায়েজ হোক। তারপর চাইলে সারা বচ্ছর সিঁথি কেটে চড়াতে থাকুন।
নয়ত 'চাড্ডি' - মতে ছেলে-মেয়েরা 'রঙ' খেলার শখে খেলতে হলে হার্বাল বা বাড়ির-তৈরি সিঁদুর কিনুন। চাড্ডিরা বলছেন 'mixing turmeric-lime and the metal mercury' ইজ ভেরী উপকারী। ইট অলসো অ্যাক্টিভেটস সেক্সুয়াল ড্রাইভ !! হুরিম্মা !! আর 'সেক্স-ড্রাইভ' ই যদি, পুরুষ এর দল জাপানী-তেলের বদলে নিজের কপালে-সিঁথেয় না চড়িয়ে বৌ'দের কেন চড়াইয়া থাকেন এ পোস্নে প্রায় পোত্যেকেই - চর গায়া উপার মে… গুট্টু-গুটুর। এই সব পক্ষী-সম আওয়াজ নিক্লাছছেন।
আরে 'আঙ্কেল এ শরবতে বিষ নাহি আছে' মুখ করে রঙ খেল্বার ঘোড়া দেখিয়ে পিত্তি-তন্ত ফলাইতে চাইলে রঙ-বর্ষিয়ে খেলিয়ে না।
ধম্ম না, নিরপেক্ষ উৎসব, আনন্দের লাগি সিন্দূর খেলিতেছি বল্লে হবে ? তা ছেলে-বুড়ো- বিপত্নীক, সধবা-বিধবা সব্বাই মিলে খেলুন না। সব্বাই মিলে সারা বচ্ছর মাথায় লাগান।
আঙ্কেল, এ শরবতে বিষ নাহি আছে 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায়

ধর্ম-ভীতু-মা-বাবা-কাকা-কাকী সম, অসম বা যারা সচেতনতা'র সুযোগ পাননি, ছাড়লাম- সচেতন, privileged, লিবেরাল, ইন্ডিপেন্ডেন্ট নারীরা কি করে এই misogynist হারেম-সম্পত্তি আগত প্রাক-সভ্যতা যুগের আচার পালন করেন কিছুতেই বোধগম্য না হওয়ায় এক কেজি জিলিপি খেয়ে ফেল্লাম। মাইরি !!
অন সিরিয়াস নোটঃ
শুধু কেমিক্যালি ক্ষতিকারক নয়, ইতিহাস-সমাজ চেতনার ক্ষতিকারক এই ধর্ম-ছাপ রীতিটি সম্পর্কে সচেতন করার কাজটি দুরূহ। উৎসবের আনন্দে আপার-হ্যান্ড নিয়ে কন্সেন্টের তোয়াক্কা না করেই বাড়ি'র মানুষজন, বন্ধু-বান্ধব ও সঙ্গী সাথীরা এই দাগিয়ে দেওয়ার কাজটি অনায়াসে করে থাকেন।
ছবি পোস্টালাম। আটবছর আগের।
জবরদস্তি সিঁদুর দিয়ে দাগানোর পর সত্যিই ডাক্তার দেখিয়ে সারিয়ে নিতে হয়েছিলো।
'কন্সেন্ট' জরুরী হ্যায় !

Comments

Popular posts from this blog

এই বিজয় উৎসব সঙ্কীর্ণতার